সময় সন্ধ্যা ৬:১৬, শনিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দে ছন্দহীন চাটমোহর উপজেলা বিএনপি

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধের কারণে পাবনার চাটমোহর উপজেলা বিএনপি দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
দলীয় কর্মসূচী পালিত হচ্ছে পৃথকভাবে। দু’জনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে।
অনেকটা ছন্দহীনভাবে চলছে চাটমোহর উপজেলা বিএনপি। যে কারণে তৃণমুলে বিরাজ করছে চরম হতাশা।
দলীয় যে কোন কর্মসূচী সভাপতি-সম্পাদক নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে ঘরোয়াভাবে পালন করে থাকেন।
সম্প্রতি তারা দু’জনেই আগামী একাদশতম জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। মুলতঃ এরপর থেকেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পর থেকে আন্দোলন থেকে শুরু যে কোন কর্মসূচী পৃথকভাবে পালন করে আসছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা।
অতি সম্প্রতি সারাদেশব্যাপী বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২০ জুলাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসাদুল ইসলাম হীরা আংশিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এরপরেই উপজেলা বিএনপি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
পরে গত ২৭ জুলাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলাম তার অনুসারীদের নিয়ে আলাদাভাবে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এরপর থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেক নেতা-কর্মী নিজেদের রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, এখনই যদি এমন হয় তাহলে নির্বাচনের সময় কি হবে?
তবে তাদের দু’জনের মধ্যে এই বিরোধটা কেন বা এর কারণ কি, নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট কোন ধারণা নেই।
বিভেদের কথা স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা বলেন, ‘আন্দোলনের সময় মাঠে আমি নেতা-কর্মীদের নিয়ে ছিলাম। আমার নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছিল। জেল খেটেছি। তিনি (সভাপতি) আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাঁত করে চলেন বলেই তার নামে কোন মামলা নেই। আন্দোলনের সময় তাকে মাঠে পাওয়া যায়নি। ভোটের সময় এগিয়ে আসায় তিনি আবার আলাদা কর্মসূচী পালন করে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘হাসাদুল ইসলাম হীরকে উপজেলা কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জেলা কমিটি জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে। তার সঙ্গে আমার নীতিতে মিলছে না। এক বনে দুই বাঘ থাকলে মতানৈক্য হবেই। তিনি আরও বলেন, আলাদা প্রোগ্রাম না করলে উনি (সাধারণ সম্পাদক) ফোকাসে আসবেন না। মামলা আমার নামেও আছে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এমন বলা হচ্ছে।’

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী